গুলশান-২, ঢাকা, বাংলাদেশ   Saturday,04 February 2023

সম্পাদকীয়- প্রত্যয় ২9

about1

 

নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী দেশের মূল্যবান সম্পদ

 

একটি দেশের নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী সে দেশের বড় সম্পদ। সে দিক থেকে বাংলাদেশ অতীব সম্পদশালী। দেশে বৃহত্তর বাঙালি জনগোষ্ঠী ছাড়াও রাষ্ট্রীয়ভাবে ৫০টি নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর স্বীকৃতি রয়েছে। তাদের শারীরিক গঠন কাঠামো, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, আচার ব্যবহার, জীবন-জীবিকা, সংস্কৃতি ভাষার ভিন্নতা বিদ্যমান। বাঙালি সংস্কৃতি ছাড়াও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বর্ণাঢ্য বৈচিত্র্যময় সকল সংস্কৃতি নানা উৎসব আয়োজন দেশের জাতীয় সংস্কৃতিকে আরো সমৃদ্ধ বর্ণিল করেছে। বাংলাদেশকে করেছে বহুমাত্রিক ফুলের সমন্বয়ে একটি সমৃদ্ধ বাগান। করেছে অনেক সুন্দর, অনেক বৈচিত্র্যময়।

২০২২ সালের আদম শুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা সাড়ে ১৬ কোটির বেশি। তবে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের জরিপে বলা হয়েছে লোকসংখ্যা ১৭ কোটির অধিক। আর দেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনসংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ। দেশের নাগরিক হিসেবে তাদের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান নিরাপত্তার দায়িত্বও রাষ্ট্র সরকারের। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, দেশের এই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের অনেক সদস্যই আর্থ-সামাজিক দিক যেমন শিক্ষা, বাসস্থান, চিকিৎসা ইত্যাদি ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে আছে। এমনকি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগ সত্ত্বেও তাদের অনেকেই এখনো মানবেতর জীবন যাপন করছে। সকল কিছুর পেছনে মূল কারণ শিক্ষা সচেতনতার অভাব, আর্থিক দুরবস্থা কর্মসংস্থানের অভাব।

এসব দুরবস্থা থেকে তাদের উন্নয়নের পথে যুক্ত করতেই সরকারের উন্নয়ন উদ্যোগের পাশাপাশি মিশনারী চার্চসহ জাতীয় আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান এই পিছিয়ে থাকা সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের আত্মকর্মসংস্থান, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর ফলে নৃগোষ্ঠীসমূহের অনেকেরই আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে। একই সাথে বাঙালিদের সাথে এক সময় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর যে সামাজিক দূরত্ব ছিল তা ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে। দেশ জাতির উন্নয়নে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে সম্মিলিতভাবে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বুরো বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক এবং প্রত্যয়ের উপদেষ্টা সম্পাদক জাকির হোসেন এর নির্দেশনা ছিল দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষেরা কেমন আছে তা সরেজমিন দেখে, জেনে এবং তাদের সাথে কথা বলে প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন খাতের সহায়তা নিয়ে কতোদূর এগিয়েছে নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী তা জানতে হবে।

উদ্দেশ্যে আমরা চষে বেড়িয়েছি বৃহত্তর রাজশাহী, বৃহত্তর রংপুর, বৃহত্তর দিনাজপুর, বৃহত্তর ময়মনসিংহ, সিলেটের পথে-ঘাটে এবং পার্বত্য জেলাসমূহের দুর্ভেদ্য গভীর বনাঞ্চলে। ভারতের মিজোরাম সীমান্তবর্তী সাজেক এর সুউচ্চ কংলাক পাহাড়ের চূড়োয় উঠেছি লুসাই ত্রিপুরাদের যাপিত জীবন সম্পর্কে জানার জন্য। আমাদের প্রচেষ্টা বিফল হয়নি। বরং সকল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষেরা মনের আকুতি মিশিয়ে তাদের প্রাণে জাগা কথাগুলো বলেছেন, সমস্যা তুলে ধরেছেন। অনেকেই বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠনসমূহের সহযোগিতায় তাদের সাফল্যের গল্প বলে প্রশান্তির হাসি হেসেছেন। বলেছেন, আমাদের ভাগ্যের চাকা বদলানোর পেছনে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন খাতের অবদান অনেক। তারা আমাদের আত্মার আত্মীয়। প্রত্যয়ের সংখ্যা সাজানো হয়েছে দেশের পিছিয়ে থাকা নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর সুখ-দুঃখ, সমস্যা সম্ভাবনার গল্প নিয়েই।