গুলশান-২, ঢাকা, বাংলাদেশ   Wednesday,28 February 2024

বুরোর ঋণে সফল লাইজা বড়ুয়া

about1

শরীফ হাসান চৌধুরী

 

খুব অল্প বয়সে প্রাইমারি স্কুলের গন্ডি পার হতে না হতেই বিয়ে হয়ে যায় লাইজা বড়ুয়ার। প্রায় ২৫ বছর আগে জীবনের কঠিন বাস্তবতার মধ্যে দিয়ে স্বামীর সংসার শুরু করেন তিনি। লাইজা বড়ুয়া ও সুনীল বড়ুয়ার দম্পতির ৪ সন্তান ও শাশুড়ি নিয়ে বাঁশখালী উপজেলার শীলকূপ ইউনিয়নের বড়ুয়া পাড়া গ্রামে বসবাস। লাইজা বড়ুয়ার ৭ জনের অভাব-অনটনের সংসার। স্বামী সুনীল বড়ুয়া (৪৫) পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। একজনের আয় দিয়ে পরিবারের ঠিকমতো খাবার জোটে না। রাজমিস্ত্রি কাজের পাশাপাশি নিজের সামান্য জমিতে সবজির চাষ করেন। পুঁজির অভাবে সবজি চাষও ভালোভাবে করতে পারে না। সংসারে অভাব ও আয় রোজগার না থাকায় বড় দুই ছেলেকে লেখাপড়া বন্ধ করে বাবার সাথে কাজে নিয়ে যায়। যাতে সংসারের কিছুটা হলেও স্বচ্ছলতা আসে এই আশায়। শত প্রতিকূলতার মাঝেও লাইজা বড়ুয়া নিজের পরিবারকে আগলে রাখার চেষ্টা করেন। বড় দুই ছেলেকে লেখাপড়া করাতে না পাড়ায় তার বুকের মধ্যে চাপা কষ্ট সবসময় অনুভব করেন। আবার স্বামীর একার পক্ষে সংসারের ঘানি টানাও সম্ভব হয়ে উঠছিল না। এভাবে চলছে লাইজা বড়ুয়ার জীবন সংগ্রামের তীব্র লড়াই।
২০১৯ সালে প্রথম পরিচয় হয় বুরো বাংলাদেশের কক্সবাজার অঞ্চলের বাঁশখালী শাখার এক কর্মীর সাথে। সবকিছু দেখে লাইজা বড়ুয়াকে ঋণ দেওয়ার সিন্ধান্ত নেয়। সে যাত্রায় ৩০ হাজার  টাকা ঋণ নিয়ে ভাঙা ও জরাজীর্ণ ঘর মেরামত করেন। সবজি চাষের জন্য দ্বিতীয়বার আবার বুরো বাংলাদেশ এর বাঁশখালী শাখা থেকে ৪৫ হাজার টাকা ঋণ নেন। এবার আগের তুলনায় সবজি চাষে বেশি বিনিয়োগ করলেন। সবজি ভালো ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় বেশ লাভ হয়। এর পর লাইজা বড়ুয়ার পরিবারকে আর  পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আস্তে আস্তে পরিবারে স্বচ্ছলতা দেখা দেয়।
লাইজা বড়ুয়ার বাড়িতে খাবার পানি বা নিরাপদ পানির কোনো ব্যবস্থা নেই।  অন্যের বাড়ি থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হয়। বৃদ্ধ শাশুড়ি ও সন্তানসহ পরিবারে জন্য স্বাস্থ্যসম্মত কোন পায়খানা নেই। ফলে দুর্যোগপূর্ণ  আবহাওয়া বা রাতের বেলায় প্রকৃতির কাজে সারা দিতে বেশ কষ্ট হতো পরিবারের সকলের। এরই মধ্যে এক দিন বুরো বাংলাদেশ বাঁশখালী শাখার শাখা ব্যবস্থাপকের মাধ্যমে নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে জানতে পারলেন। লাইজা বড়ুয়া বুঝতে পারলেন কয়েক দিন পরপর তারাও পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হন। স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা না থাকায় অনেক আপনজনও তার বাড়িতে তেমন থাকতে আগ্রহ দেখায় না। পাশাপাশি তিনি আরও জানলেন, বুরো বাংলাদেশ সদস্যদের নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহারের জন্য স্থাপনা তৈরি করতে ঋণ প্রদান করে থাকে। 
বাড়িতে এসে স্বামী ও পরিবারে সদস্যদের সাথে পরিবারে জন্য নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যস¤মত পায়খানার সুবিধা নিয়ে কথা বলেন। পরিবারের সদস্যদের সম্মতিতে বুরো বাংলাদেশ এর বাশখালী শাখা থেকে নতুন স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা স্থাপনের জন্য ১০ হাজার টাকা ঋণ নেন। ঋণের টাকার সাথে নিজেদের জমানো কিছু টাকা স্বামীর হাতে তুলে দেন। পাশাপাশি সবজি বিক্রির টাকা দিয়ে পায়খানা থেকে ৩০ফিট দূরে নিরাপদ পানির জন্য একটি নলকূপ স্থাপন করেন। এর ফলে লাইজা বড়ুয়ার পরিবার স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহারের পাশাপানি নিরাপদ পানি পান করার নিজস্ব সুযোগ তৈরি হয়।  
আগের তুলনায় লাইজা বড়ুয়ার পরিবার বেশ ভালো আছে। তার ঘরে এখন আর অভাব নেই। বড় মেয়ে স্থানীয় একটি স্কুলে ৭ম শ্রেণিতে আর ছোট ছেলে ২য় শ্রেণিতে পড়ে। এই দম্পতি এখন সুন্দর জীবনের আরও বড় স্বপ্ন দেখছে। 
লাইজা বড়ুয়া বলেন, বুরো বাংলাদেশ আমার সুখ দুঃখের সাথে আছে। বুরো বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞ।

 

প্রকল্প মনিটর, ওয়াটার ক্রেডিট প্রকল্প
চট্টগ্রাম অঞ্চল, বুরো বাংলাদেশ